সোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › ‘যুদ্ধ ও ধ্বংস’ নিয়ে আবার আলোচনায় বাবা ভাঙার ভবিষ্যদ্বাণী

‘যুদ্ধ ও ধ্বংস’ নিয়ে আবার আলোচনায় বাবা ভাঙার ভবিষ্যদ্বাণী

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
‘যুদ্ধ ও ধ্বংস’ নিয়ে আবার আলোচনায় বাবা ভাঙার ভবিষ্যদ্বাণী

বুলগেরিয়ার রহস্যময় নারী ও তথাকথিত ‘ভবিষ্যৎদ্রষ্টা’ বাবা ভাঙার ভবিষ্যদ্বাণী আবারও আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, তিনি চলতি বছরে ‘যুদ্ধ ও ধ্বংস’-এর পূর্বাভাস দিয়েছেন—এমনকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কার কথাও বলেছেন।


ভাইরাল এসব দাবিতে আরও বলা হয়, বাবা ভাঙা অতীতে ৯/১১ হামলা, বারাক ওবামার নির্বাচিত হওয়া, চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনা এবং বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের উত্থানের মতো বড় ঘটনাও নাকি আগাম জানিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে মৃত্যুর পর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তার কথিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলো ঘিরে মানুষের কৌতূহল ও বিতর্ক থামেনি।


কিছু সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বাবা ভাঙা ২০২৬ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা এবং মানুষের প্রথম ভিনগ্রহী জীবনের সংস্পর্শে আসার কথাও বলেছিলেন। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রামাণ্য দলিল বা লিখিত রেকর্ড পাওয়া যায় না।


বাবা ভাঙার জন্ম ১৯১১ সালে, বর্তমান নর্থ ম্যাসেডোনিয়ার স্ট্রুমিকায়। অনুসারীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ১২ বছর বয়সে এক ঝড়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর তার মধ্যে অলৌকিক শক্তির বিকাশ ঘটে। জীবদ্দশায় তিনি ব্যক্তিগত ও বৈশ্বিক নানা বিষয়ে মানুষকে পরামর্শ দিতেন বলে প্রচলিত রয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, বাবা ভাঙাকে ঘিরে প্রচলিত ভবিষ্যদ্বাণীর বড় অংশই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব, পুরোনো কথাবার্তা এবং বর্তমান সময়ের ব্যাখ্যার সমন্বয়। অনেক ক্ষেত্রেই তিনি নিজে এমন কিছু বলেছেন বা লিখেছেন—এর কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। ফলে বাস্তব বিশ্বের ঘটনাবলীর সঙ্গে এসব কথিত ভবিষ্যদ্বাণী মিলিয়ে দেখাকে বৈজ্ঞানিক বা বিশ্বাসযোগ্য বলা যায় না।


অনুসারীরা দাবি করেন, তার কিছু ভবিষ্যদ্বাণী নাকি মিলেছে—যেমন ৯/১১ হামলা, রাশিয়ার কুরস্ক সাবমেরিন দুর্ঘটনা, ওবামার প্রেসিডেন্ট হওয়া কিংবা চেরনোবিল বিপর্যয়। তবে সমালোচকেরা বলেন, বহু ভবিষ্যদ্বাণীই বাস্তবে ঘটেনি। যেমন ২০১০ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বা ২০২৫ সালে কোনো ক্রীড়া আসরে ভিনগ্রহীদের আবির্ভাবের মতো দাবিগুলো বাস্তবায়িত হয়নি।


বাবা ভাঙাকে ঘিরে প্রচলিত কথিত সময়রেখায় আরও বলা হয়—২০২৮ সালে মানুষ শুক্র গ্রহে শক্তির সন্ধান করবে, ২০৩৩ সালে মেরু অঞ্চলের বরফ ব্যাপকভাবে গলে যাবে, ২০৭৬ সালে বিশ্বজুড়ে কমিউনিজম ছড়িয়ে পড়বে, ৩০০৫ সালে মঙ্গলগ্রহের সভ্যতার সঙ্গে যুদ্ধ হবে এবং ৫০৭৯ সালে পৃথিবীর অবসান ঘটবে। এসব দাবিকেও বিশেষজ্ঞরা কল্পনাপ্রসূত বলে মনে করেন।


তথ্যপ্রমাণের অভাব সত্ত্বেও বাবা ভাঙা এখনো একটি সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে মানুষের আগ্রহ জাগিয়ে রাখছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহাকাশ অনুসন্ধান, ভূরাজনীতি কিংবা পৃথিবীর ভবিষ্যৎ—এসব অনিশ্চিত বিষয় ঘিরে ভবিষ্যৎ জানার মানুষের স্বাভাবিক আকর্ষণই তাকে ঘিরে এই দীর্ঘস্থায়ী কৌতূহলের মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


সূত্র: গালফ নিউজ