যুদ্ধ ও রাজনৈতিক চাপে ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে নেতানিয়াহু
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন সময় পার করছেন। দুর্নীতি মামলার চাপ, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু বহুমুখী চাপের মুখে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা এই নেতার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলার পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে উৎসাহিত করার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এর জেরে ইরান ইসরাইল, উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনা এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করে। একই সময়ে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতও অব্যাহত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে লেবাননে সামরিক অভিযান সীমিত করার আহ্বান পাচ্ছেন, অন্যদিকে দেশের একটি অংশ ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার পক্ষে রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ জনমতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরেও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনে তার অনীহা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ ছাড়া দুর্নীতির মামলাগুলোও তার রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচন শুধু ইসরাইলের পরবর্তী সরকার নির্ধারণ করবে না, বরং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের ভবিষ্যৎও নির্ধারণ করতে পারে।