দেশের সব আবহাওয়া রেডার অচল, দুর্যোগের পূর্বাভাসে বাড়ছে শঙ্কা
দেশের পাঁচটি আবহাওয়া রেডারের সবগুলোই বর্তমানে অচল হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ ঢাকার রেডারটি বিকল হওয়ায় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আওতায় ঢাকা, রংপুর, মৌলভীবাজার, কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় পাঁচটি রেডার স্থাপন করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি ও পুরোনো সরঞ্জামের কারণে একে একে সব রেডারই কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
রংপুরের নতুন রেডারটি গত ১৭ জুন থেকে যান্ত্রিক সমস্যায় বন্ধ রয়েছে। কক্সবাজারের রেডার প্রায় তিন বছর, খেপুপাড়ার রেডার আট বছর এবং মৌলভীবাজারের রেডারও দীর্ঘদিন ধরে অচল। সর্বশেষ ঢাকার রেডারটিও বিকল হওয়ায় দেশের কোথাও এখন কার্যকর আবহাওয়া রেডার নেই।
কর্মকর্তাদের মতে, বেশ কয়েকটি রেডারের যন্ত্রাংশ পুরোনো হয়ে গেছে। অনেক যন্ত্রের নিশ্চয়তা সেবার মেয়াদ শেষ হওয়ায় কিংবা প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বাজারে না থাকায় দ্রুত মেরামত করাও সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে দেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মেঘের গতিপ্রকৃতি, বজ্রঝড় ও বৃষ্টিপাতের সঠিক তথ্য পাওয়ার জন্য রেডার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রেডার অচল থাকায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল, কক্সবাজার উপকূল এবং রাজধানীসহ বিস্তীর্ণ এলাকা সরাসরি রেডার পর্যবেক্ষণের বাইরে চলে গেছে। ফলে এখন উপগ্রহচিত্র ও গাণিতিক বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।
রংপুরের নতুন ডপলার রেডারটি দীর্ঘ এক যুগ পর চালু হলেও মাত্র এক বছরের মধ্যেই তা বিকল হয়ে যায়। জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে স্থাপিত এই আধুনিক রেডারটি প্রায় চারশ পঞ্চাশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম ছিল। ঝড়, বজ্রপাত, বৃষ্টিপাত, শিলাবৃষ্টি, বায়ুর গতি এবং মেঘের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করত এই রেডার।
রংপুর আবহাওয়া কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেডারটির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটি এখনো নিশ্চয়তা সেবার আওতায় থাকায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের মেরামতের কাজ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে যখন ভারী বৃষ্টি, বজ্রঝড় ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়, তখন কার্যকর আবহাওয়া রেডার না থাকা দেশের দুর্যোগ পূর্বাভাস ব্যবস্থার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।