রবিবার , ২৬ জুলাই ২০২৬
রবিবার , ২৬ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্ব‘প্রশ্নফাঁসের প্রথম দিন থেকেই দায় নিয়েছি’: পদত্যাগের পর খোলা চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান

‘প্রশ্নফাঁসের প্রথম দিন থেকেই দায় নিয়েছি’: পদত্যাগের পর খোলা চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
‘প্রশ্নফাঁসের প্রথম দিন থেকেই দায় নিয়েছি’: পদত্যাগের পর খোলা চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান

নীট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা আন্দোলনের মুখে পদত্যাগের পর খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন ভারতের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। চিঠিতে তিনি বলেছেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা সামনে আসার প্রথম দিন থেকেই তিনি এর দায় স্বীকার করেছেন এবং কখনোই পরিস্থিতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি।


শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত খোলা চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা সংস্কারের জন্য কাজ করে আসছেন। তার বিশ্বাস, একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দূরদর্শী শিক্ষা ব্যবস্থাই একটি উন্নত রাষ্ট্রের ভিত্তি।


তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত নীট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে, পরীক্ষা বাতিল করে পুনঃপরীক্ষার ঘোষণা দেয় এবং আগামী বছর থেকে কম্পিউটারভিত্তিক (সিবিটি) পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।


ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সহযোগিতায় ২১ জুন পুনঃপরীক্ষা সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।


তিনি বলেন, শুরু থেকেই তিনি এই ঘটনার দায় নিয়েছেন এবং কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যাতে প্রশ্নফাঁস চক্রের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করেছেন। তার দাবি, ১৬ জুলাই প্রকাশিত নীট-ইউজি পরীক্ষার ফলাফলে বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী শিক্ষার্থীরা সফল হয়েছেন।


চিঠিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংকটের সময় দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা কিছু ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন, যা তাকে ব্যথিত করেছে। তবে তিনি দেশের গণতন্ত্র এবং তরুণদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতি নিজের আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।


সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত কয়েক দিনের পরিস্থিতি তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তার মতে, দেশের যুবসমাজই ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং তাদের বিভ্রান্তির পথে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়।


পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, জন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট পরিস্থিতির সুযোগ যেন রাষ্ট্রবিরোধী কোনো শক্তি নিতে না পারে, দেশের ঐক্য অক্ষুণ্ন থাকে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতায় না পড়ে—এসব বিবেচনায় রেখেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।


চিঠির শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সহকর্মী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কর্মজীবনে সহযোগিতা করা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি বলেন, দেশসেবাই তার জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যতেও তিনি সেই দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন।