প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন জুলাই যোদ্ধা শেখ আজিজুর রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জুলাই আন্দোলনে গুরুতর আহত শেখ আজিজুর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে তিনি আন্দোলনের সময় ব্যবহৃত রক্তমাখা জাতীয় পতাকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) জানান, সাক্ষাতের মাধ্যমে আজিজুর রহমানের দীর্ঘদিনের একটি ব্যক্তিগত ইচ্ছা পূরণ হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে আজিজুর জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধেছিলেন। সেই রক্তমাখা পতাকাই তিনি স্মারক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আজিজুর রহমানের স্বীকৃতি না পাওয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজিজুরের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী আজিজুর রহমানের আন্দোলনে আহত হওয়ার ঘটনা, পড়াশোনা, জীবিকার জন্য সিএনজি চালানোর সংগ্রাম এবং বর্তমান চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। তাঁর আত্মত্যাগ ও কঠিন জীবনসংগ্রামের কথা শুনে সমবেদনা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুভূতি জানিয়ে শেখ আজিজুর রহমান বলেন, সরাসরি নিজের কথা বলতে পেরে তিনি আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। বহুদিন ধরে রক্তমাখা জাতীয় পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল, যা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
শেখ আজিজুর রহমান সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তাঁর বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় মিরপুর-১০ নম্বর ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা হাতে আন্দোলনে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও রিমান্ড শেষে মুক্তি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দীর্ঘ সময় ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ার অভিযোগ উঠে। জীবিকার তাগিদে তাঁকে সিএনজি চালিয়েও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে। সাম্প্রতিক এই সাক্ষাৎকে তাঁর আত্মত্যাগের স্বীকৃতির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।