মঙ্গলবার , ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার , ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমসারা দেশপুলিশের ভুলে ২০ দিন কারাগারে নির্দোষ জেলে, প্রকৃত আসামি বিদেশে

পুলিশের ভুলে ২০ দিন কারাগারে নির্দোষ জেলে, প্রকৃত আসামি বিদেশে

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
পুলিশের ভুলে ২০ দিন কারাগারে নির্দোষ জেলে, প্রকৃত আসামি বিদেশে

পটুয়াখালীর মহিপুরে পুলিশের ভুলে ২০ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন মো. জলিল হাওলাদার নামে এক নির্দোষ মৎস্যজীবী। অভিযোগ উঠেছে, মামলার প্রকৃত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে একই নাম, বাবার নাম ও গ্রামের ঠিকানা হওয়ায় ভুল করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অথচ মামলার প্রকৃত আসামি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের দাবিতে ২০২৩ সালে পটুয়াখালীর আদালতে মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া একটি চেক ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়।


ওই মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট মহিপুর থানার এএসআই মো. শহিদুল শিববাড়িয়া এলাকা থেকে মো. জলিল হাওলাদার নামে এক জেলেকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে তিনি পটুয়াখালী কারাগারে রয়েছেন।


পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আসামির নাম, বাবার নাম ও গ্রামের ঠিকানা একই থাকায় এ ভুল হয়েছে। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।


ওসি বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় সাধারণত আসামির মায়ের নাম উল্লেখ থাকে না। এ কারণে একই নাম, বাবার নাম ও ঠিকানা হওয়ায় হালিমা খাতুনের ছেলে জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের সময় জলিলের পরিবারের সদস্যরা তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই—এমন তথ্য পুলিশকে জানাননি। জানালে বিষয়টি যাচাই করা হতো। ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভুলটি অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়েছে। জলিল যাতে দ্রুত জামিন পান, সে জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।


এদিকে জলিলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির জানান, বিষয়টি আদালতকে অবহিত করে রোববার জামিনের আবেদন করা হয়েছে। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ওই আবেদনের শুনানি হয়নি।


আইনজীবীর ভাষ্য, মামলার প্রকৃত আসামি ও কারাগারে থাকা জলিল হাওলাদারের পরিচয় যাচাই করে দ্রুত তাকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।